আইবুপ্রোফেন + প্যারাসিটামল

নির্দেশনা

এই ট্যাবলেট মধ্যম থেকে মৃদু ব্যথার সাময়িক চিকিৎসায় যেসব ক্ষেত্রে আইবুপ্রোফেন বা প্যারাসিটামল পৃথকভাবে কাজ করে না (যেমন- মাইগ্রেন, মাথাব্যথা, পিঠেব্যথা, মাসিকের ব্যথা, দাঁতের ব্যথা, বাত ও অস্থিসন্ধিতে ব্যথা, পেশীতে ব্যথা, ঠান্ডা ও সর্দিজনিত সমস্যা, গলা ব্যথা ও জ্বর) সেসব ক্ষেত্রে নির্দেশিত।

ফার্মাকোলজি

প্যারাসিটামল একটি প্যারা-অ্যামিনোফেনল ডেরিভেটিভ যার ব্যথানাশক ও জ্বরনিরোধক বৈশিষ্ট্য এবং দুর্বল প্রদাহ-বিরোধী কার্যকারিতা রয়েছে। এর ব্যথানাশক কার্যক্রম কেন্দ্রীয় প্রোস্টাগ্লান্ডিন উৎপাদনে বাধা প্রদান এবং ইনহিবিটরি নিম্নমুখী সেরোটোজেনিক পাথওয়ে পরিবর্তনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয় এবং জ্বরনিরোধক কার্যক্রম হাইপোথ্যালামাসে প্রোস্টাগ্লান্ডিন উৎপাদন হ্রাসের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। আইবুপ্রোফেন একটি NSAID যার ব্যথানাশক, প্রদাহ-বিরোধী ও জ্বরনিরোধক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এটি COX-1 ও COX-2 এনজাইমের কাজে বাধা প্রদানের মাধ্যমে প্রোস্টাগ্লান্ডিন উৎপাদন প্রতিহত করে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

ওষুধ গ্রহণের পথ: খাবারের সাথে মুখে গ্রহণ করতে হবে।

নির্দেশিত মাত্রা: একটি ২০০/৫০০ ট্যাবলেট বা দুইটি ১২৫/২৫০ ট্যাবলেট দিনে তিনবার (৮ ঘণ্টা পর পর)। প্রয়োজন হলে ২০০/৫০০ ট্যাবলেট সর্বোচ্চ দুইটি করে দিনে তিনবার গ্রহণ করা যাবে। পরপর দুইটি মাত্রা গ্রহণের মাঝে কমপক্ষে ছয় ঘণ্টার পার্থক্য থাকতে হবে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্যারাসিটামল ৩০০০ মিগ্রা ও আইবুপ্রোফেন ১২০০ মিগ্রার বেশি ওষুধ গ্রহণ করা যাবে না।

শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে ব্যবহার: ১৮ বছরের কম বয়সের শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর নিরাপদ ব্যবহার ও কার্যকারিতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া

অন্য ওষুধের সাথেঃ প্যারাসিটামল সম্বলিত অন্যান্য ওষুধ, অ্যাসিটাইলস্যালিসাইলিক এসিড, COX-2 ইনহিবিটরসহ অন্যান্য NSAID এর সাথে এই কম্বিনেশনের একত্রে প্রয়োগ প্রতিনির্দেশিত। কোলেস্টাইরামিন, মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডন, এন্টিকোয়াগুলেন্টস, এন্টিহাইপারটেনসিভস, এন্টিপ্লেটলেট এজেন্টস ও SSRI, কার্ডিয়াক গ্লাইকোসাইড, সাইক্লোস্পোরিন, কর্টিকোস্টেরয়েড, মিফেপ্রিস্টোন, কুইনোলোন, এন্টিবায়োটিক, ট্যাক্রোলিমাস ও জিডোভুডিনের সাথে একত্রে প্রয়োগের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

প্রতিনির্দেশনা

যেসব রোগীদের এই কম্বিনেশন বা অ্যাসিটাইলস্যালিসাইলিক এসিড বা অন্যান্য NSAID বা এই ওষুধের অন্যান্য উপাদানের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা আছে তাদের ক্ষেত্রে এটি প্রতিনির্দেশিত। এছাড়া যেসব রোগীদের NSAID জনিত গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল আলসারেশন/পারফোরেশন বা রক্তক্ষরণ আছে বা পূর্বের ইতিহাস আছে, রক্ত জমাট বাধায় সমস্যা আছে, গুরুতর যকৃতের অকার্যকারিতা, গুরুতর বৃক্কের অকার্যকারিতা বা গুরুতর হৃদযন্ত্রের অকার্যকারিতা (NYHA Class IV) রয়েছে তাদের ক্ষেত্রেও এটি প্রতিনির্দেশিত।

পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া

সাধারণ পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াসমূহ হলো পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি, বমি, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, বদহজম, হাইপারহাইড্রোসিস, বর্ধিত সিরাম ক্রিয়েটিনিন ও ব্লাড ইউরিয়া এবং অস্বাভাবিক লিভার ফাংশন টেস্ট।

গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে

গর্ভাবস্থায়ঃ গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে এই কম্বিনেশনের ব্যবহার এবং এর সাথে সম্পর্কিত গুরুতর জন্মগত ত্রুটি, গর্ভপাত বা মায়ের বা ভ্রূণের উপর বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কোন সুনির্দিষ্ট গবেষণামূলক তথ্য পাওয়া যায়নি। গর্ভাবস্থায় প্রথম ছয় মাস এই কম্বিনেশনের ব্যবহার এড়িয়ে চলতে হবে এবং শেষ তিন মাসে এর ব্যবহার প্রতিনির্দেশিত।

স্তন্যদানকালেঃ প্যারাসিটামল মাতৃদুগ্ধে নিঃসরিত হয় তবে তা ক্লিনিক্যালি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে নয়। স্বল্প সময়ে নির্দেশিত মাত্রায় চিকিৎসার ক্ষেত্রে মায়ের দুধ প্রদান বন্ধ করার প্রয়োজন নেই।

সতর্কতা

যেসব রোগীদের ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা বা এলার্জিক রোগ আছে বা এর ইতিহাস আছে, উচ্চরক্তচাপ, মৃদু থেকে মধ্যম ক্রনিক হার্ট ফেইলিউর, মিক্সড কানেকটিভ টিস্যু ডিজঅর্ডার, SLE, নন-সিরোটিক অ্যালকোহলিক লিভার ডিজিজ, G6PD এর অভাব, ক্রনিক পুষ্টিহীনতা, ক্ষুধামন্দা, বুলিমিয়া, পেশীক্ষয়, পানিশূন্যতা, হাইপোভোলেমিয়া ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টাইনাল রক্তক্ষরণের জন্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। বৃক্কীয়, হৃদযন্ত্রের ও যকৃতের অকার্যকারিতার রোগী, যেসব রোগী ডাইইউরেটিক্স গ্রহণ করেন এবং বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে বৃক্কের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

মাত্রাধিক্যতা

মাত্রাধিক্যের ক্ষেত্রে বিবর্ণতা, বমি বমি ভাব, বমি, পেটে ব্যথা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা, খিঁচুনি এবং যকৃতের বা বৃক্কের ক্ষতি হতে পারে। লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। ১ ঘণ্টার মধ্যে মাত্রাধিক্য হলে অ্যাক্টিভেটেড চারকোল দ্বারা ও ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এন-অ্যাসিটাইলসিস্টেইন দ্বারা চিকিৎসা করতে হবে।

থেরাপিউটিক ক্লাস

Non-steroidal Anti-inflammatory Drugs (NSAIDs)

সংরক্ষণ

আলো থেকে দূরে, ৩০° সে. এর নিচে ও শুষ্ক স্থানে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।