ফস্ফেনিটোইন সোডিয়াম
নির্দেশনা
ফস্ফেনিটোইন স্বল্পমেয়াদী ইনজেকশন বা ইনফিউশন হিসেবে নির্দেশিত, যখন মুখে ফেনীটোইন দেওয়ার অন্যান্য মাধ্যম অনুপলব্ধ, অনুপযুক্ত বা কম সুবিধাজনক বলে মনে হয়। এটি জেনারেলাইজড কনভালসিভ স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস (তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী খিঁচুনি) নিয়ন্ত্রণে এবং নিউরোসার্জারি (মস্তিষ্কের অস্ত্রোপচার) বা মাথায় আঘাত পাওয়ার সময় খিঁচুনি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি সাময়িকভাবে মুখে সেবনের ফেনীটোইনের বিকল্প হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
এই চিকিৎসায় ফস্ফেনিটোইনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা টানা ৫ দিনের বেশি সময়ের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
এই চিকিৎসায় ফস্ফেনিটোইনের নিরাপত্তা ও কার্যকারিতা টানা ৫ দিনের বেশি সময়ের জন্য সুনির্দিষ্টভাবে মূল্যায়ন করা হয়নি।
ফার্মাকোলজি
ফস্ফেনিটোইন সোডিয়াম ইনজেকশন হলো একটি প্রো-ড্রাগ, যা ইনজেকশন বা ইনফিউশন হিসেবে প্রয়োগের জন্য তৈরি এবং শরীরে প্রবেশ করার পর এটি রূপান্তরিত হয়ে সক্রিয় মেটাবোলাইট 'ফেনাইটোয়েন'-এ পরিণত হয়। ফস্ফেনিটোইন সোডিয়াম ইনজেকশনটি অ্যাম্পুলে একটি প্রস্তুতকৃত মিশ্রণ হিসেবে সরবরাহ করা হয়, যাতে ওয়াটার ফর ইনজেকশন বিপিএবং ট্রোমেথামিন ইউএসপি বাফার থাকে। এর পিএইচ হাইড্রোক্লোরিক অ্যাসিড বা সোডিয়াম হাইড্রোক্সাইডের সাহায্যে ৮.৬ থেকে ৯.০-এ সমন্বয় করা থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ফস্ফেনিটোইনের আণবিক ওজনের তারতম্যের কারণে মাত্রা নির্ধারণের জটিলতা এড়াতে আইভি (IV) ফস্ফেনিটোইনের মাত্রা, এর মিশ্রণের ঘনত্ব এবং ইনফিউশনের গতি সর্বদা ফেনীটোইন সোডিয়াম ইকুইভ্যালেন্ট (PE) হিসেবে প্রকাশ করা হয়; যেখানে ১.৫ মিলিগ্রাম ফস্ফেনিটোইন সোডিয়াম = ১ মিলিগ্রাম ফেনীটোইন সোডিয়ামের সমতুল্য।
ভায়ালে কোনো কণা বা বিবর্ণতা দেখা গেলে তা ব্যবহার করা যাবে না। আইভি ইনফিউশনের পূর্বে ফস্ফেনিটোইনকে ৫% ডেক্সট্রোজ বা ০.৯% স্যালাইন ইনজেকশনের সাথে মিশিয়ে ঘনত্ব ১.5 থেকে ২৫ মিলিগ্রাম/মিলি-এর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস:
বয়োবৃদ্ধ রোগী: বয়স ফস্ফেনিটোইনের ফার্মাকোকিনেটিক্সের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে বয়োবৃদ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে ফেনীটোইন শরীর থেকে নিষ্কাশনের হার কিছুটা কমে যায়, তাই তাদের জন্য কম মাত্রা বা কম ঘন ঘন ওষুধের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
ভায়ালে কোনো কণা বা বিবর্ণতা দেখা গেলে তা ব্যবহার করা যাবে না। আইভি ইনফিউশনের পূর্বে ফস্ফেনিটোইনকে ৫% ডেক্সট্রোজ বা ০.৯% স্যালাইন ইনজেকশনের সাথে মিশিয়ে ঘনত্ব ১.5 থেকে ২৫ মিলিগ্রাম/মিলি-এর মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।
স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস:
- প্রাপ্তবয়স্ক: শিরা পথে ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ১০০-১৫০ মি.গ্রা. গতিতে) শুরুতে ১৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে। এরপর রক্ষণশীল মাত্রা হিসেবে মাংসপেশিতে ইনজেকশন বা শিরায় ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ৫০-১০০ মি.গ্রা./মিনিট) দৈনিক ৪-৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে, যা ১-২টি বিভক্ত মাত্রায় দেওয়া যায়। রোগীর সাড়াদান এবং রক্তে ফেনীটোইনের ঘনত্বের ওপর ভিত্তি করে মাত্রা সমন্বয় করতে হবে।
- ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: শিরা পথে ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ২-৩ মি.গ্রা./কেজি গতিতে) শুরুতে ১৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে। এরপর আইভি ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ১-২ মি.গ্রা./কেজি গতিতে) দৈনিক ৪-৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে, যা ১-৪টি বিভক্ত মাত্রায় দেওয়া যায়।
- প্রাপ্তবয়স্ক: মাংসপেশিতে বা শিরায় ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ৫০-১০০ মি.গ্রা. গতিতে) শুরুতে ১০-১৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে। এরপর একই গতিতে বা মাংসপেশিতে দৈনিক ৪-৫ মি.গ্রা./কেজি (১-২টি বিভক্ত মাত্রায়) দিতে হবে।
- ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: শিরা পথে ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ১-২ মি.গ্রা./কেজি গতিতে) শুরুতে ১০-১৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে এবং পরবর্তীতে দৈনিক ৪-৫ মি.গ্রা./কেজি দিতে হবে, যা ১-৪টি বিভক্ত মাত্রায় প্রযোজ্য।
- প্রাপ্তবয়স্ক: মাংসপেশিতে বা শিরায় ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ৫০-১০০ মি.গ্রা. গতিতে) মুখে সেবনের ফেনীটোইনের সমপরিমাণ মাত্রা এবং একই সময়সূচী অনুযায়ী দিতে হবে।
- ৫ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশু: শিরা পথে ইনফিউশন হিসেবে (প্রতি মিনিটে ১-২ মি.গ্রা./কেজি গতিতে) মুখে সেবনের ফেনীটোইনের সমপরিমাণ মাত্রা ও সময়সূচী অনুযায়ী দিতে হবে।
বয়োবৃদ্ধ রোগী: বয়স ফস্ফেনিটোইনের ফার্মাকোকিনেটিক্সের ওপর বড় কোনো প্রভাব ফেলে না। তবে বয়োবৃদ্ধ রোগীদের ক্ষেত্রে ফেনীটোইন শরীর থেকে নিষ্কাশনের হার কিছুটা কমে যায়, তাই তাদের জন্য কম মাত্রা বা কম ঘন ঘন ওষুধের ডোজ প্রয়োজন হতে পারে।
ঔষধের মিথষ্ক্রিয়া
ফস্ফেনিটোইন থেকে ফেনীটোইনে রূপান্তরের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কোনো ওষুধের কথা জানা যায়নি। তবে ফেনীটোইনের মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে এমন কিছু ওষুধ নিচে দেওয়া হলো:
- রক্তে ফেনীটোইনের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে এমন ওষুধ: আকস্মিক অ্যালকোহল গ্রহণ, অ্যামিওডারোন, ক্লোরামফেনিকল, ক্লোরডায়াজেপক্সাইড, সিমেটিডিন, ডায়াজেপাম, ডিকুমারল, ডিসালফিসাম, ইস্ট্রোজেন, ইথোসুক্সিমাইড, ফ্লুওক্সেটিন, H2-অ্যান্টাগোনিস্ট, হ্যালোথেন, আইসোনিয়াজিড, মিথাইলফেনিডেট, ফেনোথিয়াজিন, ফিনাইলবুটাজোন, স্যালিসাইলেট, সাক্সিনিমাইড, সালফোনামাইড, টলবুটামাইড, ট্রাজোডোন।
- রক্তে ফেনীটোইনের মাত্রা কমিয়ে দিতে পারে এমন ওষুধ: কার্বামাজেপিন, দীর্ঘমেয়াদী অ্যালকোহল আসক্তি, রিসারপিন।
- মাত্রা বাড়াতে বা কমাতে পারে এমন ওষুধ: ফেনোবারবিটাল, ভ্যালপ্রোইক অ্যাসিড এবং সোডিয়াম ভ্যালপ্রোয়েট। একইভাবে, ফেনোবারবিটাল ও ভ্যালপ্রোইক অ্যাসিডের ওপর ফেনীটোইনের প্রভাবও অনিশ্চিত।
প্রতিনির্দেশনা
- ফস্ফেনিটোইন, ফেনীটোইন বা অন্য কোনো হাইডানটোইন (Hydantoin) গ্রুপের ওষুধের প্রতি অতিসংবেদনশীলতা বা অ্যালার্জি থাকলে।
- সাইনাস ব্রাডিকার্ডিয়া (হৃদস্পন্দন অত্যন্ত কম হওয়া), সাইনো-অ্যাট্রিয়াল ব্লক, সেকেন্ড ও থার্ড ডিগ্রি এ-ভি (A-V) হার্ট ব্লক এবং অ্যাডামস-স্টোকস সিন্ড্রোম থাকলে এটি ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া
ফস্ফেনিটোইন বা ফেনীটোইন শিরায় দ্রুত প্রয়োগের ফলে সবচেয়ে মারাত্মক যে সমস্যাগুলো হতে পারে তা হলো—কার্ডিওভাসকুলার কলাপ্স (হৃদযন্ত্রের আকস্মিক অচল অবস্থা) এবং কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের অবসাদ। দ্রুত আইভি প্রয়োগের কারণে রক্তচাপ হঠাৎ কমে যেতে (Hypotension) পারে। তাই ওষুধ প্রয়োগের গতি কোনোভাবেই প্রতি মিনিটে ১৫০ মি.গ্রা. PE-এর বেশি হওয়া উচিত নয়।
সাধারণত দেখা দেওয়া অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে-নিস্টাগমাস (চোখের মণির অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া), মাথা ঘোরা, চুলকানি, প্যারেস্থেসিয়া (ত্বকে ঝিঁঝিঁ ধরা অনুভূতি), মাথাব্যভা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং অ্যাটাক্সিয়া (হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা)।
সাধারণ নিরাপত্তা পরামর্শ: ফস্ফেনিটোইন আইভি ইনফিউশনের ফলে মারাত্মক হৃদরোগ সংক্রান্ত জটিলতা যেমন-অ্যাসিস্টোল (হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া), ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশন এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। এছাড়া নিম্ন রক্তচাপ, ধীর হৃদস্পন্দন এবং হার্ট ব্লকের তথ্যও পাওয়া গেছে।
সাধারণত দেখা দেওয়া অন্যান্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে-নিস্টাগমাস (চোখের মণির অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া), মাথা ঘোরা, চুলকানি, প্যারেস্থেসিয়া (ত্বকে ঝিঁঝিঁ ধরা অনুভূতি), মাথাব্যভা, তন্দ্রাচ্ছন্নতা এবং অ্যাটাক্সিয়া (হাঁটাচলায় ভারসাম্যহীনতা)।
সাধারণ নিরাপত্তা পরামর্শ: ফস্ফেনিটোইন আইভি ইনফিউশনের ফলে মারাত্মক হৃদরোগ সংক্রান্ত জটিলতা যেমন-অ্যাসিস্টোল (হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া), ভেন্ট্রিকুলার ফিব্রিলেশন এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হতে পারে। এছাড়া নিম্ন রক্তচাপ, ধীর হৃদস্পন্দন এবং হার্ট ব্লকের তথ্যও পাওয়া গেছে।
- ইনফিউশন চলাকালীন হৃদস্পন্দন, রক্তচাপ এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি পর্যবেক্ষণ করুন।
- ইনফিউশন শেষ হওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখুন।
- রক্তচাপ কমে গেলে ইনফিউশনের গতি কমিয়ে দিন বা বন্ধ করুন।
গর্ভাবস্থায় ও স্তন্যদানকালে
গর্ভাবস্থা ক্যাটাগরি 'D' (Pregnancy Category-D)। গর্ভাবস্থায় ফস্ফেনিটোইন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কারণ গর্ভকালীন সময়ে ফেনীটোইনের প্রভাব ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটি এবং অন্যান্য বিকাশজনিত ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। ফস্ফেনিটোইন গ্রহণকারী মায়েদের সন্তানদের বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
ফস্ফেনিটোইনের মাত্রা সবসময় ফেনীটোইন সোডিয়াম ইকুইভ্যালেন্ট (PE) হিসেবে প্রেসক্রিপশন ও সরবরাহ করা উচিত। ফস্ফেনিটোইন থেকে ফেনীটোইনে বা ফেনীটোইন থেকে ফস্ফেনিটোইনে পরিবর্তনের সময় মাত্রার কোনো অতিরিক্ত তারতম্য করবেন না।
স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাসের মাত্রা সংক্রান্ত সতর্কতা: ফস্ফেনিটোইন কোনোভাবেই প্রতি মিনিটে ১৫০ মি.গ্রা. PE-এর বেশি গতিতে শিরায় দেওয়া যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি ৫০ কেজি ওজনের রোগীর জন্য সাধারণ আইভি ইনফিউশন দিতে ৫ থেকে ৭ মিনিট সময় নেওয়া উচিত। যদি দ্রুত শরীরে ফেনীটোইন পৌঁছানো মূল লক্ষ্য হয়, তবে ফস্ফেনিটোইন আইভি ইনফিউশনই সবচেয়ে শ্রেয়।
খিঁচুনি পুনরুত্থান ও আকস্মিক বন্ধের ঝুঁকি: খিঁচুনির তীব্রতা বা ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যাওয়া (এমনকি স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস হওয়া) রোধ করতে মৃগীরোগের বা খিঁচুনির ওষুধ হুট করে বন্ধ করা যাবে না। ওষুধের মাত্রা কমানো, বন্ধ করা বা বিকল্প ওষুধ শুরু করার প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন করতে হবে। তবে তীব্র অ্যালার্জি বা অতিসংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে।
অন্যান্য সতর্কতা:
স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাসের মাত্রা সংক্রান্ত সতর্কতা: ফস্ফেনিটোইন কোনোভাবেই প্রতি মিনিটে ১৫০ মি.গ্রা. PE-এর বেশি গতিতে শিরায় দেওয়া যাবে না। উদাহরণস্বরূপ, একটি ৫০ কেজি ওজনের রোগীর জন্য সাধারণ আইভি ইনফিউশন দিতে ৫ থেকে ৭ মিনিট সময় নেওয়া উচিত। যদি দ্রুত শরীরে ফেনীটোইন পৌঁছানো মূল লক্ষ্য হয়, তবে ফস্ফেনিটোইন আইভি ইনফিউশনই সবচেয়ে শ্রেয়।
খিঁচুনি পুনরুত্থান ও আকস্মিক বন্ধের ঝুঁকি: খিঁচুনির তীব্রতা বা ফ্রিকোয়েন্সি বেড়ে যাওয়া (এমনকি স্ট্যাটাস এপিলেপটিকাস হওয়া) রোধ করতে মৃগীরোগের বা খিঁচুনির ওষুধ হুট করে বন্ধ করা যাবে না। ওষুধের মাত্রা কমানো, বন্ধ করা বা বিকল্প ওষুধ শুরু করার প্রক্রিয়াটি ধীরে ধীরে সম্পন্ন করতে হবে। তবে তীব্র অ্যালার্জি বা অতিসংবেদনশীলতার ক্ষেত্রে দ্রুত বিকল্প চিকিৎসা শুরু করা যেতে পারে।
অন্যান্য সতর্কতা:
- হৃদযন্ত্রের অবসাদ: নিম্ন রক্তচাপ এবং গুরুতর মায়োকার্ডিয়াল ইনসাফিসিয়েন্সি (হৃদপেশীর দুর্বলতা) রোগীদের ক্ষেত্রে এটি সতর্কতার সাথে ব্যবহার করতে হবে।
- চামড়ায় ফুসকুড়ি (Rash): ত্বকে কোনো ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিলে ফস্ফেনিটোইন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।
- যকৃতের ক্ষতি (Hepatic Injury): ফেনীটোইন ব্যবহারের ফলে তীব্র লিভারের বিষাক্ততা এবং লিভার ফেইলিওরের কিছু বিরল ঘটনা ঘটেছে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে ওষুধ সাথে সাথে বন্ধ করতে হবে এবং পুনরায় দেওয়া যাবে না।
- রক্তসংবহনতন্ত্র: রক্তে প্লাটিলেট কমে যাওয়া (Thrombocytopenia), শ্বেতকণিকা কমে যাওয়া (Leukopenia), অ্যানিমিয়া বা অস্থিমজ্জার অবসাদজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
- ফসফেট লোড: ফস্ফেনিটোইনে ফসফেটের উপস্থিতি থাকে (0.0037 mmol phosphate/mg PE)। তাই যাদের শরীরে ফসফেট গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন (যেমন: তীব্র কিডনি বিকল রোগী), তাদের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।
- সাধারণ: ফস্ফেনিটোইন 'অ্যাবসেন্স সিজার' (Absence seizures - এক ধরণের মৃদু খিঁচুনি) এর চিকিৎসায় কার্যকর নয়। এছাড়া ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে এটি রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে।
মাত্রাধিক্যতা
অতিরিক্ত মাত্রার ফলে বমি বমি ভাব, বমি, চরম অবসাদ, দ্রুত হৃদস্পন্দন (Tachycardia), ধীর হৃদস্পন্দন (Bradycardia), হৃদস্পন্দন বন্ধ হওয়া (Asystole), কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট, নিম্ন রক্তচাপ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া (Syncope), রক্তে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়া, মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস এবং মৃত্যুর ঘটনা ঘটতে পারে।
তীব্র ফেনীটোইন বিষাক্ততার প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো নিস্টাগমাস, অ্যাটাক্সিয়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া। ফস্ফেনিটোইনের সুনির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিডোট (Antidote) নেই, তাই এর চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক এবং সহায়ক (Supportive)। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তসংবহনতন্ত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে হিমোডায়ালাইসিস বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশুদের তীব্র বিষাক্ততার ক্ষেত্রে টোটাল এক্সচেঞ্জ ট্রান্সফিউশন (রক্ত পরিবর্তন) ব্যবহার করা হয়েছে।
তীব্র ফেনীটোইন বিষাক্ততার প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো নিস্টাগমাস, অ্যাটাক্সিয়া এবং কথা জড়িয়ে যাওয়া। ফস্ফেনিটোইনের সুনির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিডোট (Antidote) নেই, তাই এর চিকিৎসা মূলত লক্ষণভিত্তিক এবং সহায়ক (Supportive)। রোগীর শ্বাস-প্রশ্বাস এবং রক্তসংবহনতন্ত্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্রয়োজনে হিমোডায়ালাইসিস বিবেচনা করা যেতে পারে। শিশুদের তীব্র বিষাক্ততার ক্ষেত্রে টোটাল এক্সচেঞ্জ ট্রান্সফিউশন (রক্ত পরিবর্তন) ব্যবহার করা হয়েছে।
থেরাপিউটিক ক্লাস
Adjunct anti-epileptic drugs
সংরক্ষণ
২°সে. থেকে ৮°সে. তাপমাত্রায় (ফ্রিজের নরমালে) সংরক্ষণ করুন। ডিপ ফ্রিজে (deep freeze) রাখবেন না। এই ওষুধটি কক্ষ তাপমাত্রায় সর্বোচ্চ ৪৮ ঘণ্টার বেশি রাখা যাবে না। অ্যাম্পুলের ভেতরে কোনো কণা বা গুঁড়ো দেখা দিলে তা ব্যবহার করবেন না। শিশুদের নাগাল ও দৃষ্টির বাইরে রাখুন।
